• Home
  • Articles
  • Islamic :: Bangla
  • PEW জরীপ - বাংলাদেশের শরিয়াকরণ - ১০নং মহাবিপদ সংকেত?

সাহিত্যের বইতে ধর্মের অনুপ্রবেশ - দেখে শিখব না ঠেকে শিখব?

Religious Infiltration of Textbooks

জাতির দুশ্চিন্তা উদ্বেগে এবং উদ্বেগ এখন আতংকে রূপ নিয়েছে। শিক্ষানীতি-সিলেবাসের ব্যাপারে মৌলবাদের খপ্পরে পড়ে গেছে আমাদের বাচ্চারা। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া যাক (যদিও ইতিহাসের প্রধান শিক্ষা হলো, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। তাই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে )।

দুনিয়ার অন্যতম ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তান জন্ম থেকেই শিক্ষাকে পদ দলিত করে যুদ্ধবাজ ও জঙ্গী / মোল্লাতন্ত্রের দিকে ছুটেছে। ১৯৪৮ সালে দেশের প্রথম বাজেটের ৪১% ই খরচ হয়েছে সামরিক খাতে, শিক্ষাখাতে ছিল সামান্য। সুচতুর পরিকল্পনা করে ইসলামের নামে শিক্ষাকে এমনভাবে হিংস্র ও জঙ্গীবাদী করা হয়েছে যে মাদ্রাসা তো বটেই, স্কুলকলেজগুলো পর্যন্ত হয়েছে মৌলবাদী হিংস্র নাগরিক উৎপাদনের কারখানা। গত ৭০ বছর ধরে বাচ্চারা ওই বিষ গিলে গিলে বড় হয়েছে। ফলে প্রায় পুরো জাতটা এমনভাবে সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গী হয়ে গেছে যে সে নরক থেকে পাকিস্তান কোনোদিন বেরোতে পারবে কিনা সন্দেহ। বাংলাদেশও সেই পথে এগিয়ে চলেছে।

পাকিস্তানের এই করুণ অবস্থা ফুটে উঠেছে অনেক সমীক্ষায়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো USCIRF (ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশন্যাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম)-এর অনুদানে ইন্টারন্যাশন্যাল সেন্টার ফর রিলিজিওন অ্যাণ্ড ডিপ্লোম্যাসি (ICRD)-এর ২০১১ সালে করা। তার সাথে পাকিস্তানী সংগঠনও আছে। দেখা গেছে :-

1. অক্ষরজ্ঞান হবার সময় থেকেই বাচ্চাদের রক্তে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গীবাদের বিষ ঢুকিয়ে দেয়া হয়। যেমন A-তে আল্লাহ, B-তে বন্দুক, J-তে জিহাদ ইত্যাদি ।
2. বাচ্চারা শিক্ষকদের অভ্রান্ত মনে করে। প্রত্যেক শিক্ষকই বলেছেন “ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদ প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ”। মুশকিলটা হলো সেই ইসলামটা কি আর কে তার শত্রু সেটা তাঁরাই ঠিক করবেন ও জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেবেন।
3. তার পর বই থেকেই ক্রমাগত শেখানো হয়-“পাকিস্তান শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য”, “ভারত, পশ্চিমা বিশ্ব ও হিন্দুরা ইসলামের চিরকালের দুশমন”, “মুসলিমদের জিহাদ করতে হবে ” এরকম শত শত উদাহরণ আছে স্কুল কলেজের বইগুলোতে। আছে হিন্দু ও খ্রিস্টানদের প্রতি ঘৃণা।
4. সরকারী স্কুলের ৮০ % ছাত্র বলেছে -“অমুসলিমেরা ইসলামের শত্রু।”
5. শিক্ষকেরা ক্লাসের মধ্যেই সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ান যা অমোঘ সত্য হিসেবে বাচ্চাদের মাথায় গেঁথে যায়।
6. বেশীর ভাগ শিক্ষকই বলেছেন অমুসলিমদেরকে কিছুতেই সরকারী উচ্চপদ দেয়া চলবে না।
7. শিক্ষকদের অনেকেই মনে করেন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার থাকা উচিত নয়।
8. ক্লাসরুমের মধ্যে ঘুড়ি, দাবার বোর্ড, ক্যারমবোর্ড, গীটার ইত্যাদির ছবি টাঙিয়ে শেখানো হয় সেগুলো “গুনাহের কাজ” ।
9. সরকারী স্কুলগুলোতে হিন্দু-ক্রিস্টান বাচ্চাদের জোর করে ইসলামী ক্লাসে ঢুকিয়ে দেয়া হয়, তাদের নিজেদের ধর্মীয় ক্লাস করতে দেয়া হয়না।
10. এসব তথ্যে প্রমাণিত হয় স্কুল-কলেজের বইগুলোতে সাম্প্রদায়িক উপাদান ঢোকালে জাতির কতবড় সর্বনাশ হতে পারে। একবার এরকম হলে তাকে শোধরানো অসম্ভব। ২০০৬ সালে এটা শোধরাবার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু জামাত ও অন্যান্য রক্ষণশীল ইসলামী ও রাজনৈতিক দলের তীব্র বিরোধীতার জন্য কিছুই করা যায়নি।
11. এ সমস্যার সংস্কার করার জন্য USAID ২০০২ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারকে ৭০ কোটি ডলার দিয়েছে। কোনো লাভ হয়নি, টাকাগুলো স্রেফ গচ্চা গেছে।
12. ২০০৯ সালে কেরী /লাগার বিল পাকিস্তান সরকারকে শিক্ষা সহ বেসামরিক খাতে ৫ বছরে ৭৫০০ কোটি ডলার দিয়েছে। কোনো লাভ হয়নি, টাকাগুলো স্রেফ গচ্চা গেছে।
13. ২০১২ সালে USAID পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে শিক্ষা খাতে প্রায় ৩৪ কোটি ডলার দিয়েছে। কোনো লাভ হয়নি, টাকাগুলো স্রেফ গচ্চা গেছে।

আজকের এই ভয়াবহ অবস্থা কিন্তু শুরু হয়েছিল খুবই আস্তে করে, বহু বছর আগে, ঠিক আজ যেভাবে শুরু হয়েছে আমাদের দেশে। প্রবাদ বাক্যের প্রজ্ঞা বলে, একই রকম যাত্রার দুরকম ফল হয় না। এখনই সাবধান না হলে জাতির সর্বনাশ হয়ে যাবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদেরকে অভিশাপ দেবে। ধর্ম থাকবে ধর্মের বইতে, পাঠ্যবইতে কেন ? বিস্তারিত নীচের লিংকে আছে। USCIRF এর কমিশনারের সাক্ষাৎকার নিতে যোগাযোগ সচিব টম কার্টারের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে – email This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.  ফোন (202) 523-3257

Link: Pakistan's Educational System Fuels Religious Discrimination

 

হাসান মাহমুদ ১৩ জানুয়ারী ৪৭ মুক্তিসন (২০১৭)


 

Print