• Home
  • Articles
  • Islamic :: Bangla
  • ইসরায়েল-ফিলিস্তীন: শত্রুমিত্র চিনলিনা রে মন !!

পাক-ভারতের স্বাধীনতা : ধামাচাপা অধ্যায়

পাক-ভারতের স্বাধীনতা : ধামাচাপা অধ্যায়
হাসান মাহমুদ - ০১ ডিসেম্বর ৫২ মুক্তিসন (২০২২)
https://bangla.bdnews24.com/opinion

আবার আসছে অভ্রভেদী ১৬ই ডিসেম্বর - আবার আত্মানুসন্ধান। মুক্তিযুদ্ধের আগুনের ভেতর দিয়ে হেঁটে আসা আমাদের প্রজন্ম বেঁচে থাকতেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত হয়ে গেছে, বিক্রীত হয়ে গেছে। অনেক দেশেই এটা হয়েছে, পাকিস্তানী জাতটাকে স্কুল সিলেবাস থেকে মিডিয়ার সর্বত্র একাত্তরের ডাঁহা মিথ্যে ইতিহাস গেলানো হয়েছে ও হচ্ছে। এটাও মোটামুটি তেমনি। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই কংগ্রেস তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবার ভয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল। কয়েক দশক আগে গবেষকেরা এটা সামনে এনেছেন, সেটাই তুলে ধরছি মোটা দাগে।

• ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে বাংলা ও ক্রমান্বয়ে ভারত দখল করে। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে বৃটিশ সরকার
ভারতবর্ষের শাসনব্যবস্থা গ্রহণ করে।
• ১৯৪৬ সালে বৃটিশ অখণ্ড স্বাধীন ভারতের পরিকল্পনা (ক্যাবিনেট মিশন) পেশ করে, সেটা মেনে নেয় কংগ্রেস ২৪শে মে ও মুসলিম লীগ ২৫শে জুন। অর্থাৎ অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতা অবধারিত। কিন্তু ১০ই জুলাই বোম্বে রেলওয়ে স্টেশনে নেহেরু সাংবাদিকদের বলেন কংগ্রেস ক্যাবিনেট মিশন গ্রহণ করেছে রাজনৈতিক দল হিসেবে কিন্তু তাঁরা গিয়ে বসবেন পার্লামেন্টে যা সার্বভৌম। এতে জিন্নাহ ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যাবিনেট মিশন বর্জন করে পাকিস্তান প্রস্তাবে ফিরে আসেন কারণ তাঁর মতে পার্লামেন্টে মেজরিটি দল হিসেবে কংগ্রেস ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নেবে।
• ১৯৪৭ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলি ঘোষণা করেন বৃটিশ সরকার পরের বছর ১৯৪৮ সালের ৩০শে জুন ভারতকে স্বাধীনতা দিয়ে চলে যাবে। সেই মোতাবেক সব দলে প্রস্তুতি চলতে থাকে।
• কিন্তু তাঁরা ১৯৪৭ সালের আগষ্টে পাক-ভারতকে স্বাধীনতা দিয়ে চলে যান।
• কেন? এমন কি ঘটল যাতে “প্রবল পরাক্রান্ত অর্ধ পৃথিবীর অধীশ্বর” হঠাৎ লোটা কম্বল নিয়ে দৌড়??

কারণ আছে। সমূহ কারণ আছে সেই ঐতিহাসিক ডিগবাজির যা ১৯৫৬ সালে জানিয়েছেন আর কেউ নন – ১৯৪৭ সালের বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী নিজে।

অবসর গ্রহণের পর মি. এটলি ১৯৫৬ সালে কলকাতা সফরে এলে পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর বিচারপতি ফণিভূষণ চক্রবর্তী তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন কংগ্রেসের বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন তো ১৯৪৭ সালের কয়েক বছর আগেই স্তিমিত, তারপরে আর তেমন কোনই আন্দোলনের চাপ ছিলনা। তাছাড়া মি. এটলি নিজেই তো ভারত ছেড়ে যাবার তারিখ ঘোষণা করেছিলেন ১৯৪৮ সালের জুন। কিন্তু তাঁরা ১৯৪৭ সালেই ভারত ছেড়ে গেলেন কেন? জবাবে মি. এটলি বলেছিলেন, সবচেয়ে বড় কারণ ছিল নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজ সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলী এবং ভারতে বৃটিশ নৌবাহিনীর বিদ্রোহ। স্বাধীনতা আন্দোলনে কংগ্রেসের অবদান কতখানি সে প্রশ্নের জবাবে তিনি - উদ্ধৃতি:- “তাচ্ছিল্যের হাসিতে ঠোঁট বাঁকাইয়া বলিলেন ‘মিনিম্যাল’"।

অর্থাৎ “ইট্টুখানি” !

হোয়াট?? স্বাধীনতা অর্জনে সুবিশাল কংগ্রেসের প্রভাব “ইট্টুখানি”?? এবং সেটা বলছেন সেই সময়ের সর্বোচ্চ নেতা! তাহলে তো ছোট দল মুসলিম লীগের প্রভাব নিশ্চয় আরও "ইট্টুখানি"! তাহলে পাক-ভারতের স্বাধীনতাটা আনলো কে? তাহলে এতদিন আমরা কি ঘোড়ার ডিম ইতিহাস পড়লাম ? ঘটনা কি?

১৯৪৫ সাল। নেতাজীর আজাদ হিন্দ ফৌজ ভারত স্বাধীন করার জন্য জাপানের সাহায্যে বিপুল বিক্রমে দূরপ্রাচ্য থেকে যুদ্ধ করে বিভিন্ন দেশ জয় করতে করতে ভারতের দোরগোড়ায় এসেছিল। কিন্তু জাপান পরাজিত হবার পরে রসদের অভাবে তারা বৃটিশ সৈন্যদলের কাছে আত্মসমর্পন করেছে। নেতাজী কোথাও নেই। অনেকে বলেন তিনি বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, অনেকে বলেন তিনি স্বেচ্ছানির্বাসনে গেছেন। ফৌজের প্রায় পঁচিশ হাজার বন্দী সৈন্যদের পাহারায় আছে বৃটিশ আর্মীর হাজার হাজার ভারতীয় সৈন্য। বন্দীরা ও প্রহরীরা পরস্পরের সাথে কথা বলছে নিজেদের ভাষায়।

প্রহরীরা রুদ্ধশ্বাসে শুনছে যেন রূপকথার গল্প, শুনছে মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার জন্য নেতাজীর ও ফৌজের সৈন্যদের প্রানান্ত প্রচেষ্টার গল্প। এদেরই গর্বিত পদভরে টলমল করেছে বার্মা থাইল্যাণ্ড, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইম্ফল, কোহিমা। অথচ বৃটিশ বাহিনীর ভারতীয় সৈন্যদেরকে বলা হয়েছিল জাপান ভারত আক্রমণ করেছে, তাই তারা আজাদ হিন্দ বাহিনীকে জাপানি বাহিনী মনে করে যুদ্ধ করে তাদেরকে বন্দী করেছে। আহা ! তারা যদি জানতো আক্রমণকারীরা জাপানি নয় তারা নেতাজির কম্যাণ্ডে মুক্তিযোদ্ধা আজাদ হিন্দ ফৌজ তাহলে তখনই তারা বিদ্রোহ করে বৃটিশকে কচুকাটা করে ভারতবর্ষ স্বাধীন করে ফেলত।

বন্দীরা বলে যায় তাদের দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের কাহিনী, নেতাজীর কাহিনী, জলে জঙ্গলে পাহাড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের "দিল্লী চলো"-র মরণপন যুদ্ধের কথা, প্রহরীরা গালে হাত দিয়ে মোহাচ্ছন্ন হয়ে শুনতে থাকে। ধীরে ধীরে বন্দীদের বুক থেকে প্রহরীদের বুকে চক্রবৃদ্ধিহারে সংক্রমিত হয় দেশপ্রেম - এক থেকে দুই, দুই থেকে চার, চার থেকে ষোলো, ষোলো থেকে দুই’শ ছাপ্পান্নো……. লক্ষ প্রহরীর বুকে প্রাগৈতিহাসিক বিশাল প্রাণীর মতো রক্তচোখে উঠে দাঁড়ালো শতাব্দীর ক্ষুধিত দেশপ্রেম। ব্যারাকগুলোতে শুরু হল:-

"চা বানাও"।
"বানাবো না'।
"জুতো পালিশ করো”।
"করবো না"।
"বন্দুক সাফ করো"।
"করবো না"।

আতংকে আঁৎকে উঠল ব্রিটিশ। আর্মীতে চেইন অফ কম্যাণ্ড ভেঙে পড়ছে!! প্রতিটি সৈন্যদল টিকেই থাকে তার চেইন অফ কম্যাণ্ড-এর ওপর, কোনো সৈন্য তার বসের হুকুম মানবেনা এ তো কল্পনাই করা যায়না ! কবি টেনিসন লিখেছেন :-
Theirs not to make reply,
Theirs not to reason why,
Theirs but to do and die…..
তাদের অধিকার নেই তর্ক করার, তাদের অধিকার নেই প্রশ্ন করার, তারা শুধু আদেশ পালন করবে ও মরবে।

ভারতে তখন চল্লিশ হাজার বৃটিশ সৈন্যের দিকে রক্তচোখে তাকিয়ে আছে পঁচিশ লক্ষ ভারতীয় সৈন্য। এই সাদারা সাগরের ওপার থেকে এসে প্রায় দু’শ বছর পায়ের নীচে পিষেছে তাদের মাতৃভূমিকে - খুন করেছে ফাঁসি দিয়েছে অগণিত ভারতীয়কে। সেই পঁচিশ লক্ষ ভারতীয় সৈন্যের যে কেউ একজন - ভুল করে হলেও - একটা গুলি ছুঁড়লেই চেইন রিএকশনে তৎক্ষণাৎ বৃটিশদের ওপরে গর্জে উঠবে লক্ষ বন্দুক। এবং সেটা ভারতে সীমাবদ্ধ থাকবেনা - সে দাবানল মুহূর্তে ছড়িয়ে যাবে এশিয়া আফ্রিকায় প্রতিটি বৃটিশ উপনিবেশে। এবং সেটা দেখে বসে থাকবেনা ফ্রেঞ্চ স্প্যানিশ সহ অন্য উপনিবেশগুলোর শতাব্দী লাঞ্ছিত মানুষগুলোও। প্রতিটি উপনিবেশে পোকামাকড়ের মতো মারা পড়বে লক্ষ লক্ষ ইউরোপীয় ‘প্রভু’রা, লণ্ডভণ্ড রক্তাক্ত হয়ে যাবে এশিয়া আফ্রিকা।

কল্পনা নয়, হিসেবের কড়ি। এবং সে হিসেব করার বুদ্ধি বৃটিশ রাখে। উদ্বিগ্ন হল লণ্ডনের মন্ত্রীসভা - উদ্বিগ্ন হলেন হার এক্সেলেন্সি কুইন।

এই মারাত্মক স্পর্শকাতর সময়ে ৫ই নভেম্বর ১৯৪৫ দিল্লীর লালকেল্লায় "বিচার" শুরু হল আজাদ হিন্দ ফৌজের মেজর জেনারেল শাহনেওয়াজ খান, কর্নেল সায়গল আর মেজর ধীলনের। সাথে সাথে আত্মকলহে শতধা বিভক্ত ছত্রিশ কোটি ভারতবাসী আমাদের একাত্তরের মতো দেশপ্রেমের বিনিসুতোর মালায় বাঁধা পড়ে গেল। আসমুদ্র হিমাচলে বিস্ফোরিত হল জনতার ভৈরব গর্জন - "বিচার বন্ধ কর"। বাংলা-বোম্বে-এলাহাবাদ-বেনারস-করাচী-পাটনা-রাওয়ালপিন্ডি সর্বত্র বিস্ফোরণ, এক কলকাতাতেই নিহত ৩২ আহত ২০০ জন - বৃটিশ পক্ষেও নিহত ১ আহত ১৮৮।

“জ্বলি উঠে শিখা ভীষণ মন্দ্রে, ধুমায়ে শূন্য রন্ধ্রে রন্ধ্রে, লুপ্ত করিছে সূর্যচন্দ্রে - বিশ্বব্যাপিনী দাহনা" - কবিগুরু। ভাতের হাঁড়ির মতো টগবগ করে ফুটছে ভারতবর্ষ, অন্তরীক্ষে সাফল্যের হাসি হাসছেন নেতাজী। অদৃশ্য থেকে তিনি তাঁর শালপ্রাংশু সহস্রবাহুতে প্রচণ্ড চেপে ধরেছেন বৃটিশের গলা।

"কণ্ঠ পাকড়ি ধরিল আঁকড়ি দুইজনা দুইজনে" –(কবিগুরু)।

কোথায় পড়ে রইলেন জিন্না-নেহেরু-গান্ধী, কোথায় পড়ে রইল কংগ্রেস-মুসলিম লীগ। তাঁদেরকে ছাড়িয়ে আকাশচুম্বী হয়ে উঠল নেতাজী ও ফৌজের মহিমা, তাঁরাই হয়ে উঠলেন স্বাধীনতার সর্বোচ্চ প্রতীক। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতা ড. পট্টভি সীতারামাইয়া লিখেছেন - "আজাদ হিন্দ ফৌজের বন্দীরা আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মেঘাবৃত করিয়া ফেলিয়াছে। মনে হইতেছে যেন তাহারা গোটা কংগ্রেসকেই সূর্যগ্রহণের মতো ঢাকিয়া দিয়াছে"।

ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল টুকার লিখলেন - "ভবিষ্যৎ অত্যন্ত বিপদজনক। আজাদ হিন্দ ফৌজ আমাদের সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করিবার হুমকি হইয়া উঠিয়াছে"।

ঐতিহাসিক হিউ টয় লিখলেন - "হিন্দ ফৌজকে কেন্দ্র করিয়া যে গণদাবী মাথা তুলিয়া দাঁড়াইল ভারতীয় সেনাবাহিনীও তাহার প্রতি সহানুভূতিশীল হইয়া পড়িল ………তাহাদের ভিতর রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ হইল যাহা আগে ছিলনা"।

ভাষ্যকার ফিলিপ মেসন লিখলেন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে, জাতি আজাদ হিন্দ ফৌজকে স্বাধীনতার বীর যোদ্ধা হিসেবে অভিনন্দিত করে ফৌজের "পতাকা দিবস" পালন করেছে।

ঘটনা অজস্র, সংক্ষেপ করি।

(১) ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় নৌ-সেনারা ৭৮টি যুদ্ধজাহাজে বৃটিশ অফিসারদেরকে বন্দী করে নেতাজীর বিশাল ছবি টাঙিয়ে কানফাটা ভোঁ ভোঁ হর্ন বাজিয়ে বিদ্রোহে ফেটে পড়লো, বিভিন্ন বন্দরে অসহায় দাঁড়ানো বৃটিশ সৈন্যদের ও সরকারের চোখের সামনে লক্ষ জনতা মাছধরা নৌকো সাম্পান যা কিছু ছিল তাই দিয়ে বিদ্রোহী জাহাজগুলোতে খাবার ও পানি পৌঁছে দিল।

“এ যেন বিপুল যজ্ঞকুণ্ড, আকাশে আলোড়ি শিখার শুণ্ড, হোমের অগ্নি মেলিছে তুণ্ড, ক্ষুধার দহন জ্বালিয়া,

নরনারী সবে আনিয়া তূর্ণ, প্রাণের পাত্র করিয়া চূর্ণ, বহ্নির মুখে দিতেছে পূর্ণ, জীবন আহুতি ঢালিয়া”!- কবিগুরু। 


(২) আদালত মেজর জেনারেল শাহনেওয়াজ খান, কর্নেল সায়গল আর মেজর ধীলনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিলে ভারতীয় বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল ক্লড অকিনলেক লণ্ডন সরকারকে লিখলেন (পরে সেগুলো প্রকাশ পেয়েছে) - "(এই) শাস্তিকে কার্যে পরিণত করিবার চেষ্টা করিলে সেনাবিদ্রোহ অবধারিত",

(৩) তিনি তাঁর “বিশেষ ক্ষমতাবলে” আদালতের রায় বাতিল করে সবাইকে মুক্তি দিলেন ০৪ জানুয়ারি ১৯৪৬। বুদ্ধিমান বৃটিশ এরপর ফৌজের আর কোন সৈন্যের বিচার করার সাহস করেনি কারণ ততদিনে তারা বাতাস টের পেয়ে গেছে,

(৪) বৃটিশ এয়ারফোর্সের ভারতীয় পাইলটরা ফৌজের সমর্থনে কর্মবিরতি হরতাল করলেন ও মামলার জন্য প্রকাশ্যে চাঁদা তুললেন,

(৫) বড়লাট লর্ড ওয়াভেল লণ্ডন সরকারকে লিখলেন - "ভারতীয় সৈন্যদের দ্বারা দেশবাসীকে দমন করার চেষ্টা করিলে বিস্ফোরণ অনিবার্য্য",

(৬) ভারত জুড়ে তখন আর্মী ব্যারাকগুলোতে ভারতীয় সৈন্যদের আদেশ অমান্য ও অসন্তোষের ধোঁয়া।

বৃটিশ একদিকে খুব চাতুর্য্য ও সাফল্যের সাথে লীগ-কংগ্রেসের নেতাদেরকে সাথে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছিল ও অন্যদিকে পাততাড়ি গোটানোর আয়োজন করছিল। নেতারা জাতিকে বোঝালেন, যে স্বাধীনতার জন্য এতো আত্মত্যাগ এতো সংঘর্ষ এতো মৃত্যু সেই স্বাধীনতা একেবারে সুনিশ্চিত ও দ্বারপ্রান্তে, এখন আর হিংসা খুনোখুনির দরকার নেই। এতে কাজ হল। নেতারা নৌবিদ্রোহীদেরকে বুঝিয়ে শুনিয়ে শান্ত করলেন, বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ করল।

গণমানস শান্ত করতে বৃটিশ ১৯৪৭ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি তারিখে ঘোষণা করেছিল তারা ভারতবর্ষকে স্বাধীনতা দিয়ে চলে যাবে পরের বছর ১৯৪৮ সালের ৩০শে জুন। তারা হয়তো ভেবেছিল স্বাধীনতা দেবার জটিল আয়োজন সম্পন্ন করতে ওরকম সময় লাগবে। কিন্তু যেহেতু তার অনেক আগেই সেটা হয়ে গেল, সম্ভবতঃ তাই তারা আর ঝুঁকির মধ্যে না থেকে ১৯৪৭ সালের আগষ্টেই চলে গেছে। গবেষক ধনঞ্জয় ভাট, অনিন্দ্য রায় বর্মন, খ্যাতনামা লেখক ও রাজ্যসভার সাংসদ প্রফুল্ল গোরাদিয়া সহ অনেক গবেষক, বিশেষ করে অর্ধেন্দু বোস ও মেজর জেনারেল গগনদীপ বকশী (অব) এ বিষয়ে অজস্র লিখেছেন, সেগুলোতে বিস্তারিত পাওয়া যাবে।

ভারতবর্ষের স্বাধীনতা অর্জনে লীগ-কংগ্রেসের অবদান আছে। কিন্তু তথ্য-বিশ্লেষণে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে এতে নেতাজী ও তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজের অবদানই সর্বোচ্চ।

১। প্রধান সূত্র - "আমি সুভাষ বলছি" - শৈলেশ দে, ৩য় খণ্ড পৃষ্ঠা ৪০১ - ৪৪৬।
২। ইন্টারনেটে "British Archives, Secret Letters Reveal Netaji, not Gandhi gave us freedom" বা এ ধরণের শব্দাবলী সার্চ করলে এর সমর্থনে অজস্র তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে।
*****************
লেখকের ইমেইল – This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

Print