• Home
  • Articles
  • Islamic :: Bangla
  • ইসলামে নারীর সমান উত্তরাধিকার ও “সুস্পষ্ট নির্দেশ”

হেফাজতের হেফাজতকারী

০৬ই এপ্রিল শাপলাচত্বরে লক্ষ লোকের সমাবেশ হয়েছিল, ঢাকার পথে বাধা না দিলে আরো হত- এটা প্রত্যাশিত। হেফাজতের দাবীনামা ভয়ংকর নারীবিরোধী সেটাও প্রত্যাশিত। যা প্রত্যাশিত নয় তা হল হেফাজতের কিছু আঁতেল হেফাজতকারীদের সংখ্যাবড়াই। নষ্ট শহরে হেফাজত নাকি জালিম শ্রেণীকে জানাল তারা ছাড়াও কোটি কোটি মানুষ আছে। অবশ্যই আছে এবং হেফাজত ছাড়াও কোটি কোটি লোক,বিশেষ করে কোটি নারীরা আছেন যাঁরা কান খাড়া করে হেফাজতের দাবীগুলো শুনলেন এবং মনে মনে শাড়ীটা-ওড়নাটা কোমরে পেঁচিয়ে নিলেন। এখন শুধু হাতে অদৃশ্য ঝাঁটাটা তুলে নেবার অপেক্ষা, ভোটের দিনে। তাঁরা আরো দেখলেন নারী-বিরোধী হেফাজতের সমাবেশে আরেক নারী-বিরোধী জালিমের আস্ফালন যারা মুখে মুখমিষ্টি "মায়ের পায়ের নীচে বেহেশত"-এর ধ্বজা ওড়ান কিন্তু বিয়ের দলিলে সেই মা'য়ের একক সাক্ষ্য বাতিল করেছেন। 

এক সময় পৃথিবীর প্রতিটি লোক বিশ্বাস করত সূর্য্য পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে,তখনও পৃথিবী-ই সুর্য্যের চারপাশে ঘুরেছে। ২য় বিশ্বযুদ্ধে আফ্রিকায় অনেক বেশী সৈন্য নিয়েও ডেজার্ট ফক্স রোমেলের হাতে নাস্তানাবুদ হয়েছেন মিত্রপক্ষের সেনাপতিরা কয়েকবার। বিভিন্ন যুদ্ধে বহুবার সংখ্যায় অনেক কম মুসলমান জিতেছিলেন সংখ্যায় বেশী শত্রুর বিরুদ্ধে। সংখ্যা সব সময় শক্তি হয় না, কোয়ালিটি না থাকলে কোয়ানটিটি এসেট না হয়ে লায়াবিলিটি হয়ে দাঁড়ায়। এই সব আঁতেলরা বিপজ্জনকভাবে যাদের শক্তিশালী করেছেন তাঁদের কোয়ালিটি কি?

রসুলের প্রতি তাঁদের মহব্বত নিয়ে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু তাঁদের কোয়ালিটি -"ব্লগ দিয়া ইন্টারনেট চালায়"-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাঁরা নারী-বিরোধী হয়ে জন্মান নি- ওটা মধ্যপ্রাচ্য থেকে এনে তাঁদের মাথায় ছোটবেলাতেই ইসলামের নাম গেঁথে দেয়া হয়েছে। তাঁদের নারী-বিরোধী মানসিকতা গড়ে উঠেছে ইসলামের নামে যে ইসলাম-বিরোধী শেকড় থেকে তার একটা উদাহরণ আছে ইমাম গাজ্জালী'র "এহহিয়া উলুমুদ্দীন"-এর ৯ এর ২ খণ্ডের ২৮৯ পৃষ্ঠায় - বিয়েতে নাকি "নারীরা স্বামীর দাসত্বে প্রবেশ করে"। হেফাজতিরা নারীকে পর্দাবন্দী করার হুঙ্কার দিচ্ছেন সমাজে বেল্লেলোপনা বেড়ে গেছে বলে। ওটা নিশ্চযই একটা বৈশ্বিক সমস্যা কিন্তু তার ভয়ানক ভুল ওষুধ দিচ্ছেন হেফাজতীরা এবং জামাত। পর্দার কঠিন তীর্থকেন্দ্র সৌদি আরব, ওই পর্দাই তাকে কি ভয়ংকরভাবে ধ্বংসের মুখোমুখি করে দিয়েছে দেখে কেঁপে উঠেছে ওদের সুশীল সমাজ। সার্ভেটা কোনো ইসলাম-বিদ্বেষীর নয় ওদের নিজেদেরই, যার মধ্যে আছে অফিস অফ সোসাইটাল সুপারভিশন, আছেন জেদ্দা'র আর্মড ফোর্সেস হাসপাতালের চিলড্রেন স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট ড: ইনাম আল রুবাই। ওখানে আজ ২৩% বাচ্চারা আত্মীযদের ধর্ষণের শিকার, রিয়াদে ৪৬% ও জেদ্দায় ২৫% তরুণ-তরুণীরা সমকামী!! গড়ে প্রতি সপ্তাহে হাসপাতালে আসে তিনজন ধর্ষিতা শিশু, এতটাই ধর্ষিতা যে হাসপাতালে আনতে হয়। কতজন ধর্ষিতা বাচ্চাকে লুকিয়ে রাখা হয়, আনা হয়না কে জানে। এই দোজখ চান হেফাজতি ও জামাতিরা আমাদের দেশে আর আমরা প্রতিরোধ করব না?? ওদের তুলনায় বাংলাদেশে আমরা তো বলতে গেলে বেহেশতে আছি - লিংক দেখুন,ওদেরই টিভিতে প্রচারিত :- http://www.youtube.com/watch?v=eqZLrtpp9t0

হেফাজতকে বলি, নাম পাল্টান। আল কোরাণ আর ইসলাম সমার্থক, যতদিন কোরাণ আছে ততদিন ইসলাম আছে। সেটার চিরন্তন হেফাজতের দাযিত্ব নিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ পাক সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে - সুরা হিজর আয়াত ৯ – “আমি স্বয়ং এ (উপদেশ গ্রন্থ) অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক"। আপনাদের "হেফাজতে ইসলাম" নামটা ওই আয়াতটার বিরুদ্ধে বিরাট চ্যালেঞ্জ! আজ আপনি আমি মারা গেলে কাল আমাদের দেহ মাটির নীচে পোকায় খাবে। আমাদের এত স্পর্ধা মানায় না। কাজেই, নাম পাল্টান, "হেফাজতে ইসলাম" বাদ দিয়ে “হেফাজতে মুসলিম" রাখতে পারেন। পরের পয়েন্ট,আপনাদের ভাস্কর্য্য ও অন্যান্য অনেক দাবীর মধ্যেও ফাঁক ও ফাঁকি আছে। মধ্যপ্রাচ্যেই বহু ভাস্কর্য্য আছে,দুনিয়ায় অসংখ্য মুসলিমের ঘরে রসুল (দ:)-এর ছবি আছে,এমনকি একটা মূর্তিও আছে আমেরিকারসুপ্রীম কোর্টে - তাতে দুনিয়াও উল্টে যায়নি রসুল (দ:)-এর সম্মানও অক্ষুন্ন আছে। দেশে ইসলামী দলগুলোর সব রসুনের এক গোড়া। সবার দাবীই মোটামুটি এক, শরিয়া ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। তাদের নারী-বিরোধী ও ইসলাম-বিরোধী শত শত কর্মকাণ্ডও অপতত্ব আমার বই ও অন্যান্য দলিলে ধরা আছে। হেফাজতের ফেইথ-কাজিন জামাতের তো কথাই নেই, খেলাফত আন্দোলন সরকারের কাছে দাবী করেছিল সংবিধানে যেন যোগ করা হয় নারীরা রাষ্ট্রপ্রধান হতে পরবেন না (ডেইলি ষ্টার, ১৩ জুলাই ২০০৮). লজ্জার কথা ! এইসব অপকর্মই জাতির সর্বনাশ করে, দুনিয়াতে দেশের ও ইসলামের বদনাম ডেকে আনে। আমাদের নারীরা উনাদের চেয়ে কম মুসলমান নন - তাঁদের সিদ্ধান্ত তাঁরাই নেবেন। হেফাজতের নেতারা যা ভালো মনে করেন বলুন কিন্তুধর্মে বাড়াবাড়ি করবেন না (মায়েদা ৭৭ , নিসা ১৭১)। জাতি তাঁদের বক্তব্য পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেবে। রব-এর কাছে সবাইকে দাঁড়াতে হবে একা, সেজন্যই ইসলামে আল্লাহ ও বান্দার ভেতরে কোনো দালালের বা রক্তচক্ষু ফিল্ড মার্শালের জায়গা নেই। জাতিকে হেদায়েত করুন, হেদায়েতেরআজ বড় অভাব। কাজ হলে ওতেই হবে, ডাণ্ডা দিয়ে রক্তক্ষয় ছাড়া আর কিছু হবে না।

হেফাজতের হেফাজতকারী আঁতেলদের অনুরোধ করছি আওয়ামী লীগ শত মিসটেক ও ব্লান্ডার করেছে করছে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ান - আমরা সমর্থন দেব। কিন্তু সেই বাহানায় তাদেরকে শক্তিশালী করবেন না যারা জেনে হোক না জেনে হোক ইসলামের ভয়ংকর ব্যাখ্যাকে দেশে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। শক্তিশালী হয়ে উঠলে তারা ছুরিটা সর্বপ্রথম আপনার বুকেই গেঁথে দেবে, ইতিহাসের দিকে ও পাকিস্তানের সুশীল সমাজের দিকে তাকিয়ে দেখুন।

হাসান মাহমুদ

১১ই এপ্রিল; ৪৩ মুক্তিসন (২০১৩)সবাইকে সালাম।

 

********************************************************************

লেখক ওয়ার্ল্ড মুসলিম কংগ্রেসের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য, - দ্বীন রিসার্চ সেন্টার হল্যাণ্ড-এর রিসার্চ এসোসিয়েট, - মুসলিমস ফেসিং টুমরো'র জেনারেল সেক্রেটারী, - ফ্রি মুসলিমস কোয়ালিশন-এর ক্যানাডা প্রতিনিধি, - আমেরিকান ইসলামিক লিডারশীপ কোয়ালিশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং খুলনা'র “সম্মিলিত নারীশক্তি”র উপদেষ্টা। শারিয়ার ওপরে বই "শারিয়া কি বলে, আমরা কি করি" ও আন্তর্জাতিক প্রশংসিত ডকু-মুভি "হিল্লা", "নারী" ও"শারিয়া প্রহেলিকা" - শিক্ষকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে লণ্ডন ও টরন্টো'র স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষাক্লাসে দেখানো হয়।      

Print