• Home
  • Articles
  • Islamic :: Bangla
  • নবীর ছবি, কোরাণ পোড়ানো, বাক্‌স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতি

একুশে'র দাবী - ড্রাকুলা ঠেকাও

ড্রাকুলা সুস্থ মানুষকে একবার কামড়ে দিলে সে-ও ড্রাকুলা হয়ে বাবা-মা, ভাই-বোন্ আত্মীয় বন্ধুবান্ধবের রক্ত খায়। মধ্যপ্রাচ্যেরক ড্রাকুলার অস্ত্র হল ভাষা, পোষাক ও সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ। অন্য দেশে ড্রাকুলা পয়দা করে সে সেই দেশকে নিজের অপসাংস্কৃতিক উপনিবেশে পরিণত করে, স্বদেশের ড্রাকুলা স্বদেশেরই রক্ত খায়। বহু বছর থেকে আমি এ প্রমাণ গুলো সেভ করে রাখছি।

পূর্বপুরুষের গড়া সভ্যতা যে কোনো জাতির গর্ব, যেমন আমাদের মহাস্থানগড়, ময়নামতি, পাহাড়পুর। পাকিস্তানে আছে হরপ্পা, মহেঞ্জদাড়ো, ও গান্ধারা সভ্যতা। কিন্তু ওখানকার ড্রাকুলা জাতিকে সেই গৌরব ভুলিয়ে দিতে চায়। সংসদে তার সংসদেরা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এনেছে স্কুলের সিলেবাস থেকে ওসব বাদ দিতে হবে, বাচ্চাদের ওগুলো জানা চলবে না কারণ:-"ওগুলি আপনাদের ইতিহাস হইতে পারে, কিন্তু আমাদের ইতিহাস শুরু হইয়াছে মক্কা মদীনা হইতে"- দি ডন, ২২শে ফেব্রুয়ারী, ২০০৭। পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী এটাকে উন্মাদের প্রলাপ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

এবারে আসি দেশের ড্রাকুলায় যারা আমাদের শেকড় অস্বীকার করে মধ্যপ্রাচ্যের অপসাংস্কৃতিক উপনিবেশ বানাতে চায়:-

1. "আরবের সেমেটিক জনগোষ্ঠির একত্মবাদী ধর্মের সাথে তাদের (মানে বাংলাদেশীদের- হাসান) যেন সহজাত একাত্মতা লক্ষ্য করা যায়. সমাজ বিজ্ঞানীরা এর কারণ হিসেবে বলেছেন, .......বাংলাদেশী জনগণ মূলত সেমিটিক দ্রাবিড়। সেমেটিকদের আদিনিবাস আরব ভূখণ্ড থেকেই তারা এসেছে। সুতরাং এই মানবগোষ্ঠী যদি নৃতাত্ত্বিক পণ্ডিতদের মতেই দ্রাবিড় হয়, আর দ্রাবিড় যদি আরব হয় তদুপরি আরব যদি সেমেটিক হয় তবে এ অঞ্চলের জনগণ সেমেটিক আরবগোষ্ঠীরই অধ:স্তন পুরুষ তাতে আর সন্দেহ কি? অনেক সমাজ বিজ্ঞানী বংলাদেশী জনগনের সাথে সেমেটিক আরবদের নাড়ীর সম্পর্ক সন্ধান করতে গিয়ে বলেছেন খোদ বাংলা শব্দটি আরবী শব্দমালার পরিবর্তিত রূপ. বাংলা শব্দের মত বাংলাদেশের অনেক স্থানের নামের উৎস আরবী। যেমন বিক্রমপুর" - ইনকিলাব সম্পাদকীয় - "ইসলামী দল নিষিদ্ধের বায়না ও যুদ্ধাপরাধী প্রসঙ্গ” - আব্দুল আউয়াল ঠাকুর, ১২ই নভেম্বর ২০০৭।

2. "সেই নূহ (আ:) যুগের মহাপ্লাবন থেকে বাংলার ইতিহাস ও বঙ্গ নামের উৎপত্তি শুরু হয়. 'বাঙালীর ইতিহাস' গ্রন্থে ডা. মোহাম্মদ হান্নান, গোলাম হোসায়ন সলীম জইদ পুরীর 'রিয়াজ-উস-সালাতীন' বই হতে 'বঙ্গ' নামের উৎপত্তি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। 'রিয়াজ-উস-সালাতীন' গ্রন্থখানি রচিত হয় (১৭৬৮ - ১৭৮৮ খ্রি:)......নূহ (আ:)- এর এক পুত্র হাম এশিয়া অঞ্চলে বংশ বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেন। হামের পুত্র "হিন্দ"এর নামানুসারে হিন্দুস্থান, সিন্দের নামানুসারে 'সিন্ধুস্থান' বা 'সিন্ধু' এবং হিন্দ-এর পুত্র 'বঙ্গ'-এর নামানুসারে বঙ্গদেশ।..... তাহলে বলতে আর বাধা নেই নূহ (আ:) এর পুত্র বা নাতির নামানুসারে বঙ্গ বা বাংলাদেশ। - "বাংলার ইতিহাসের পটভূমি"- গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল - ইনকিলাব, ফিচার পৃষ্ঠা থেকে - ২৫ জুন ২০০৮।

এরই নাম ধর্মীয় উন্মাদনা, বাড়াবাড়ি যা কিনা ওই ধর্মেই পই পই করে নিষেধ করা আছে সুরা নিসা ১৭১, মায়েদা ৭৭ আর রসুলের বিদায়-হজ্বের ভাষণে। কিভাবে ওদের বাঙালী বলবেন আপনি? পালন করে ওরা বাঙালী উৎসবগুলো? নবান্ন, নববর্ষ? গেছে যাত্রা-পালায় ? নৌকা-বাইচে?

Print