• Home
  • Articles
  • Islamic :: Bangla
  • PEW জরীপ - বাংলাদেশের শরিয়াকরণ - ১০নং মহাবিপদ সংকেত?

মসজিদ থেকে "আইন" প্রচার - আফগানিস্তানের দিকে আরো এক ধাপ ?

মসজিদ থেকে "আইন" প্রচার - আফগানিস্তানের দিকে আরো এক ধাপ ?

হাসান মাহমুদ   - ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ 

ভাতের হাঁড়ির মতো টগবগ করে ফুটছে বাংলাদেশ। নির্বাচন, গণহামলা-গণমামলা-গণগ্রেপ্তার, অজস্র টকশোতে বিভিন্ন দিকপালের চিৎকার, আমেরিকার স্যাংশন ও ভিসা-নীতি, বিদেশি কুতুবদের দৌড়ঝাঁপ - ড ইউনুসকে নিয়ে দড়ি টানাটানি - সকাল বিকাল উথাল-পাথাল ঘটনার ঘনঘটায় জাতির মন-মগজ অস্থির। ওদিকে চুপিসারে সবার অলক্ষ্যে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ, দেশের ভেতরে ইতোমধ্যেই গড়ে উঠেছে ছোট্ট ছোট্ট আংশিক স্বায়ত্তশাসিত আফগানিস্তান।

সাম্প্রতিক প্রমান ১:-   

https://www.facebook.com/watch/?v=1496203817871699

হাজীপুর মসজিদের মাইক থেকে এই দুইটি "আইন" প্রচার করা হয়েছে, লিংকটি  ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে ২২ শে আগস্ট ২০২৩, উদ্ধৃতি:-

"সম্মানিত এলাকাবাসী, সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে বৃহত্তর হাজিপুর পঞ্চায়েত কমিটির উদ্যোগে ৩ পঞ্চায়েত কমিটি ও মসজিদ কমিটির সকল সদস্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুইটি বিশেষ আইন জারি করা হয়েছে।  

এক নম্বর - যে কোন অনুষ্ঠানে গান-বাজনা ও ডিজে পার্টি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। এই আইন কোন পরিবার অমান্য করলে পঞ্চায়েত থেকে সেই পরিবারকে বহিষ্কার করা হবে। উক্ত আইন অমান্যকারী ব্যক্তি যদি সমাজের কোন কমিটির দায়িত্বে থাকে তাকে তার পদ থেকে বহিষ্কার করা হবে। যে বিয়েতে গান-বাজনা ও ডিজে পার্টি হবে সেই বিয়েতে বা অনুষ্ঠানে তিন সমাজের কোন ইমাম খতিব ও স্থানীয় ইমাম কেউ ডিল করাবে না  এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নিষেধ করা হলো। 

দুই নম্বর - এলাকায় মাদক চালান ও মাদক সেবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। কোন ব্যক্তি যদি মাদক সংক্রান্ত কোন বিষয়ে জড়িত আছে বলে প্রমাণিত হয় তাকে ৩ পঞ্চায়েত কমিটির ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।      

উক্ত আইন হাজিপুর পঞ্চায়েত কমিটির পক্ষ থেকে এই আইন এলাকার জন্য এবং এলাকার সকল মানুষের জন্য জারি থাকবে ……..মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো" – উদ্ধৃতি শেষ।

বিশ্লেষণ:-

(১) দেশে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের ক্ষমতা সংসদ ছাড়া আর কারো নেই। অথচ এই লোকগুলো "আইন" শুধুমাত্র প্রণয়নই করেনি বরং জনগণের ওপর প্রয়োগের স্পর্ধাও দেখিয়েছে। এটা সুস্পষ্ট রাষ্ট্রদ্রোহিতা, অনতিবিলম্বে এই রাষ্ট্রদ্রোহীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে এই বিষবৃক্ষ উৎসাহিত হয়ে দ্রুত বাড়বে ও সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। 

(২) এই প্রচারণার মধ্যে ধূর্তামি আছে। এতে জনগণকে আইন হাতে তুলে নেবার উস্কানী আছে যা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। তাছাড়া এতে সঙ্গীত ও মাদক একাকার করে দেয়া হয়েছে যেখানে মাদক সর্বসম্মত সামাজিক ব্যাধি কিন্তু সংগীত একটি ইখতিলাফী মাসালা। ওই লোকগুলো জানেই না (ক) উসমানিয়া খেলাফতের রাজদরবারে সংগীতের প্রচন্ড চর্চার কথা, জানে না খলীফা সুলতান তৃতীয় সেলিম সহ কয়েকজন সুলতান নিজেরাই শিল্পী ও সুরকার ছিলেন এমনকি নবী দাউদও (আ) সংগীতজ্ঞ ছিলেন। (খ) তারা এটাও জানেনা আল আজহার ইউনিভার্সিটির প্রয়াত গ্র্যান্ড মুফতি শেখ জাদ আল হক ও “ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ মুসলিম স্কলার্স” এর চেয়ারম্যান "গ্লোবাল মুফতি" ড. কারযাভীর মত অনেক বিশ্ব-আলেমরা বলেছেন শির্ক ও অশ্লীলতা না থাকলে ইসলামে সঙ্গীত অবৈধ হবার প্রশ্নই ওঠে না। ওই লোকগুলো এটাও জানেনা আবু বকর ইবনুল আরাবী বলেছেন - "গান হারাম হওয়ার পর্য্যায়ে কোন একটি হাদিসও সহি নয়", ইবনে হাজম বলেছেন - "এই পর্যায়ের সব বর্ণনাই বাতিল ও মনগড়া রচিত", এবং কোরানের দুটো আয়াতের মতলবী অপব্যাখ্যা মাত্র। ইন্টারনেটে "বিশ্ব-আলেমদের মতে ইসলামে সঙ্গীত ও বাদ্যযন্ত্র বৈধ" সার্চ করলে আমার ওয়েবসাইটের ওই নিবন্ধে বিস্তারিত দলিল প্রমান পাবেন। ড. কারযাভী’র "ইসলামে হালাল-হারামের বিধান" বইটি পাওয়া যাবে "জামায়াত  অনলাইন লাইব্রেরি" ও "শিবির অনলাইন লাইব্রেরি"-তে, দেখুন এর ৪০৬ - ৪১১ পৃষ্ঠা।

(৩) বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়, অগণিত কমেন্টে সবাই হর্ষোৎফুল্লভাবে সারাদেশে এই আবহ কামনা করেছেন। অনেকেই লিখেছেন আগে থেকেই তাঁদের গ্রামে সঙ্গীত নিষিদ্ধ। অর্থাৎ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শারিয়া-শাসিত ছোট্ট ছোট্ট আফগানিস্তান তৈরি হয়েছে, এটা অবধারিতভাবে আরো বাড়বে।

সাম্প্রতিক প্রমান ২:-

https://www.youtube.com/watch?v=CxaUAtobpWs

সার্চ - "যে গ্রামে কখনো গান বাজে না একমাত্র ওয়াজ চলে"। 

মানিকগঞ্জের গোবিন্দল গ্রামের বেসরকারি নাম এখন মুসলিম নগর। ভিডিওতে গ্রামের মুরুব্বি বলেছেন গ্রামে শতভাগ মুসলিম, সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, সব নারী বোরখা পড়েন, যৌতুক নিষিদ্ধ, সবাই কোরান পড়তে পারে, গ্রামে ৩৫টি ছোট ছোট মসজিদ। 

লক্ষ্যণীয়, কমেন্টে অনেকেই লিখেছেন আগে থেকেই তাঁদের গ্রামে সঙ্গীত নিষিদ্ধ। অর্থাৎ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইতোমধ্যেই সবার অলক্ষ্যে শারিয়া-শাসিত ছোট্ট ছোট্ট আফগানিস্তান তৈরি হয়েছে, এটা আরো বাড়বে। অগণিত কমেন্টে সবাই হর্ষোৎফুল্লভাবে সারাদেশে এই আবহ কামনা করেছেন।

বিশ্লেষণ:-  

ওই গ্রামবাসী বা মুরুব্বীরা যদিও দৃশ্যতঃ কোনো আইন ভাঙেন নি কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মর্মবাণীই ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠা যা জাতির পিতা বহুবার তাঁর ভাষণে বলেছেন, যেমন ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ কলকাতা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের ভাষণ:- "আমি আপনাদের এই আশ্বাস দেবার পারি যে বাংলাদেশ চারটা স্তম্ভের ওপর চলবে। জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও আর ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র"। সেই একাত্তরের ২৬শে মার্চেই আমেরিকান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন প্রচার করেছিল "Sheik Mujibur Rahman declares region Independent Republic" ABC, March 26, 1971- অথচ অসৎ কিছু লোক এগুলোকে অস্বীকার করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধটাকে ইসলামের বিপরীতে দাঁড় করার অপচেষ্টা করে। 

বাংলাদেশের এই ইসলামাইজেশন হবারই ছিল। জীবনে দুর্ঘটনা বলে কিছু নেই। যা ঘটে তা এজন্যই ঘটে যে, কার্য্যকারণের সমীকরণে অন্য কিছু ঘটা সম্ভবই ছিলনা। ইতিহাসের শিক্ষা কি? গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম-প্রধান দেশগুলো, মিশরের নাসের, পাকিস্তানের জিন্নাহ, ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ণ এবং তাঁদের সাথে স্বাধীন ইরানের ড. মোসাদ্দেক, তুরস্কের আদনান মেন্দারেস ও পরে বাংলাদেশের শেখ মুজিব-তাজউদ্দীন সবাই সেক্যুলার দেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু ওই প্রতিটি দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার অবক্ষয় ও শারিয়া-পন্থীদের প্রবল উত্থান ঘটেছে। এই টানাপোড়নের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ধর্মনিরপেক্ষতা ধ্বংস করে "ইসলামী দেশ” প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।

আমরা কোন পথ ধরে আজ এখানে এসে পৌঁছেছি? গত দশকগুলোতে দেশে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, বিচারহীনতা, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য ইত্যাদিকে শারিয়া-পন্থীরা সফলতার সাথে আমাদের অর্ধশিক্ষিত ধর্মীয় আবেগপ্রবণ জাতির কাছে "গণতন্ত্রের দুর্বলতা" হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তার বেহেশতী বিকল্প হিসেবে "শারিয়া আইন" ও "ইসলামী রাষ্ট্র" জনপ্রিয় করে তুলেছে। 'আল্লাহর আইন সবকিছু ঠিক করে দেবে'– এই বিশ্বাসে অগণিত নাগরিক কোনো মওলানার ফতোয়া ছাড়াই নিজে থেকে "ইসলামী আইন" প্রয়োগ শুরু করেছেন। পিউ ও অন্যান্য জরীপে সেটা স্পষ্ট। লক্ষ্যণীয়, এঁদের অনেকেই কিন্তু বিশেষ কোনো ইসলামি দল করেন না। কিছু উদাহরণ:- 

  • রাস্তাঘাটে অপরিচিত নারীদেরকে "ইসলামী পোশাক' সম্বন্ধে নসিহত দেয়া শুরু হয়েছে।
  • আগে রমজানে চাদর-ঘেরা হোটেলগুলোতে সবাই খেত, এখন রমজানে কাউকে খেতে দেখলে অনেকে হিংস্র হয়ে ওঠে। যেমন, রমজানে দূরপাল্লার বাসে গরমের দুপুরে এক যাত্রী পানি খেয়েছে বলে ড্রাইভার বাস থামিয়ে তাকে অপমান করে নামিয়ে দিয়ে গেছে।
  • ঢাকায় কন্যার আকিকায় পিতা তাঁর নানীকে গ্রাম থেকে আনার উদ্যোগ নিলে গ্রামবাসী তা হতে দেয়নি কারণ নানা সম্প্রতি মারা গেছেন, শারিয়া মোতাবেক নানীকে চার মাস ঘরে থাকতে হবে।
  • নববর্ষের উৎসবে এক কিশোর এক কিশোরীর সঙ্গে 'হ্যান্ডশেক' করেছে বলে গ্রামবাসী তাকে বেধড়ক পিটিয়েছে।
  • কয়েক বছর শয্যাগত থাকার পর একজনের মৃত্যু হলে সাধারণ মানুষ দাবি করেছে কাফফারা না দিলে তাঁর জানাজা হবে না কারণ তিনি এত বছর নামাজ পড়েননি।
  • এক কলেজের শিক্ষক ছাত্রীদের বোরখা পড়তে বাধ্য করলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও হাইকোর্টকে এগিয়ে আসতে হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কঠোর নির্দেশ দিয়েছে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউকে বোরকা পরতে বাধ্য করা যাবে না। ('জনকণ্ঠ', ২৬ আগস্ট ২০১২)।
  • রংপুরে এক এসআই ১৯ জন মেয়েকে থানায় ধরে নিয়ে আসে বোরকা না পরে পার্কে গিয়েছিল বলে। সেখানেও কোর্ট এগিয়ে এসে সেই পুলিশকে তলব করে এবং এ ধরনের অপকর্ম নিষিদ্ধ করে। ('জনকণ্ঠ', ৩ মার্চ ২০১০)।
  • বাউলদের চুল কেটে দেয়া, সংগীতশিল্পীদেরকে বাড়ীভাড়া না দেয়া, দোকানে "দাঁড়ি রাখলে ডিসকাউন্ট" ইত্যাদি বিচিত্র রকমের (আইন-বিরোধী ও আইননানুগ) অজস্র ঘটনা শারিয়া আইনের প্রতি জনগণের ক্রমবর্ধমান অন্ধ সমর্থন প্রমান করে।

এবারে দেখা যাক কী পদ্ধতিতে সুধীরে ও সুদৃঢ়ে গণমানসে এই অকল্পনীয় বিবর্তনটা ঘটল।

(১) দেশে অগণিত মওলানাদের প্রত্যেকে প্রচণ্ড গণতন্ত্র-বিরোধী ও শারিয়া-সমর্থক। তাঁরা জনগণের ওপর সুগভীর প্রভাব রাখেন, তাঁরা জাতিকে ক্রমাগত "ইসলামী রাষ্ট্র-এর সমর্থক করে তুলছেন।

(২) তাঁরা দেশের অগণিত মাদ্রাসার অগণিত ছাত্র-ছাত্রীদেরকে গণতন্ত্র-বিরোধী করে গড়ে তোলেন। এগুলো থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ শারিয়া-সমর্থক সমাজে যোগ হয়, সর্বত্র তাদের প্রভাব পড়ে। মওলানারা বহু লক্ষ যুদ্ধংদেহী মাদ্রাসা-তরুণকে রাস্তায় নামানোর ষ্ট্রীট পাওয়ারের অধিকারী। এ বাহিনী আগামীতে অনেক বাড়বে এবং সর্বত্র এর চাপ অনুভুত হবে।    

(৩) শারিয়া-সমর্থকদের হাতে আছে:- (ক) মসজিদ, ওয়াজ মাহফিল, অসংখ্য সংগঠন ও দলীয় পত্রিকা থেকে জনতাকে প্রভাবিত করার সুযোগ যা তাঁরা পুরোটাই নিয়েছেন এবং নেবেন, (খ) অসংখ্য কর্মতৎপর ও সংগঠন যেগুলো জাতির চোখের সামনে শুধুমাত্র তাদেরই ইসলামি ব্যাখ্যা ধরে রেখেছে, (গ) এবং সেগুলোতে ক্রমাগত শারিয়া প্রচার হচ্ছে, (ঘ) দুনিয়াজুড়ে 'ফেইথ-কাজিন' সংগঠগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক।  (ঘ) দেশে প্রতিটি টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রে ইসলামি অংশ থাকে যার প্রত্যেকটিই শারিয়াপন্থী। জনগণের ওপর এসবের প্রভাব সুস্পষ্ট। 

(৪) শারিয়াপন্থীদের আরেকটা বিরাট সাফল্য হল তাঁরা "ইসলাম বিরোধী" ট্যাগের ট্যাবু দিয়ে মিডিয়া সহ সারা জাতিকে ভয় পাওয়াতে সক্ষম হয়েছেন। বেশিরভাগ পত্রিকা তাঁদের বিরুদ্ধে কিছু ছাপতে ভয় পায়।

(৫) পক্ষান্তরে ইসলামের রাজনৈতিক ব্যাখ্যার বিপক্ষে বিশ্বজোড়া বিখ্যাত আলেমদের রচিত বিপুল গবেষণা জাতির কাছে পৌঁছায়নি।  সেগুলোতে রাজনৈতিক ইসলামের ভিত্তিহীনতা, কোরান-রসূল (স) বিরোধীতা, ও নারী বিরোধীতার অজস্র প্রমান আছে। সুফি ইসলামি বা ইসলামের অরাজনৈতিক ধর্মতত্ত্বের বইগুলো লেখা ও প্রচারের সংগঠন কম।   

(৬) দাবি এসেছে ন্যাশনাল ফতোয়া বোর্ড গঠনের। 

(৭) বায়তুল মোকাররমের খতিবকে প্রধান বিচারপতির মর্যাদা দিতে হবে এ দাবি আগে থেকেই ছিল।

(৮) বর্তমানে ফেসবুক ও ইউটিউবে শারীয়াপন্থীদেরই একচ্ছত্র আধিপত্য। সেখানে ভিন্নমতের কাউকে পেলে অপমান ও গালাগালির ঝড় বইয়ে দেয়া হয়।   

(৯) দেশে বোরখা বিপ্লবের সাথে ইসলামী বইয়েরও বিপ্লব ঘটে গেছে। অজস্র ইসলামী বই প্রকাশিত হয়, ইসলামী বই মেলাও হয়।

(১০) বাংলার যাত্রাপালার জায়গা দখল করেছে ওয়াজ মাহফিল। এখন যাত্রাপালার অনুমতিও কষ্টসাধ্য।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের গণমানস গণতন্ত্র বিরোধী হয়ে উঠেছে, আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতা এখন সুস্পষ্ট হুমকির মুখে। এর মূল কারণ আমাদের পংকিল রাজনীতি। আমরা বালুর মধ্যে মাথা গুঁজে নিজেদের সান্ত্বনা দিচ্ছি এই বলে যে সবকিছু ঠিকই আছে কিংবা কোনো এক মন্ত্রবলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।  

অলক্ষ্যে অট্টহাসি হাসছে নিয়তি - যুগের ওপার হতে অবিশ্বাসের চোখে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধ………….

এমন তো হবার কথা ছিলোনা !

 

 

Print