শারিয়া আইনের সংস্কার কেন অত্যন্ত দরকার - উদাহরণ খুনের আইন - হাসান মাহমুদ
বাংলাদেশ ইসলামী ফাউন্ডেশন তিন খন্ডের বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন কেতাবের প্রকাশক মাত্র। এই গবেষণাভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ কেতাব সংকলন করেছেন ছয় জন বিজ্ঞ আলেমের কমিটি, যার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের আলেম সমাজের শ্রদ্ধা-পুরুষ ইসলামিক স্কলার শাহ আবদুল হান্নান। কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা: -
(1) সভাপতি - বাংলায় আইন-গ্রন্থ রচনায় পুরোধা স্কলার, শতাধিক কেতাবের রচয়িতা, প্রেসিডেন্ট এরশাদ আমলে একুশে পুরস্কার প্রাপ্ত আইন-বিশেষজ্ঞ গাজী শামছুর রহমান, (2) আলেম সমাজের শ্রদ্ধা-পুরুষ শাহ আবদুল হান্নান (প্রয়াত), (3) আ. জ. ম. শামসুল আলম, (4) মাওলানা উবায়দুল হক, (5) মাওলানা মোহাম্মদ মূসা ও (6) মাওলানা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
কারো কোন প্রশ্ন থাকলে তাঁদের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন ২য় খণ্ড ধারা ২৮৬ ও ২৯২:-
1-. খুনের প্রমাণ কমপক্ষে দুইজন মুসলিম পুরুষের চাক্ষুষ সাক্ষ্য (অর্থাৎ নারী ও অমুসলিমের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়),
2-. আলামতের ভিত্তিতে শাস্তি হতে অন্তত: একজন পুরুষের চাক্ষুষ সাক্ষ্য দরকার,
3-. অন্তত: একজন মুসলিম পুরুষের চাক্ষুষ সাক্ষী না থাকলে অভিযুক্তকে মুক্ত করে দিতে হবে কারণ শুধু আলামতের ভিত্তিতে হুদুদ ও কিসাস মামলায় শাস্তি দেয়া যাবে না। 
**- আলামত হলো চাক্ষুষ সাক্ষীর বাইরে পারিপার্শ্বিক প্রমাণ যেমন ডিএনএ টেস্ট, ফিঙ্গার প্রিন্ট, জুতার প্রিন্ট, কাপড়ে রক্তের দাগ, শরীরের নির্যাতনের দাগ ইত্যাদি।
**- হুদুদ মামলায় মুসলিম অপরাধীর বিরুদ্ধে অমুসলিমের সাক্ষ্য অবৈধ পেনাল ল অফ ইসলাম পৃষ্ঠা ১৪৯,
**- রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে খুন-জখম চুরি-ডাকাতি মদ্যপান, জেনা ব্যভিচার ইত্যাদি হুদুদ ক্ষেত্রে শাস্তি তো দূরের কথা মামলাই করা যাবে না - হানাফি কেতাব শারিয়া কিতাব হেদায়া পৃষ্ঠা ১৮৮ এবং বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন ৩য় খণ্ড আইন নং ৯১৪ গ।
***************************
বিশেষ দ্রষ্টব্য - সংস্কার প্রয়োজন এমন কিছু আইনের ক্ষেত্রে কিছু সংস্কার হয়েছে যেমন জেনা-ধর্ষণের ক্ষেত্রে ডিএনএ টেস্ট কিম্বা নারীর বা অমুসলিমের সাক্ষ্য এখন শারিয়া আদালতে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু কেতাবে আগের আইনটাই রয়ে গেছে যা দেখানো হলো। সুতরাং, সংস্কার দরকার এমন আইনের তালিকা করে কেতাবের পরবর্তী সংস্করণে সেগুলো আপডেট করা দরকার।