• Home
  • Articles
  • Islamic :: Bangla
  • ধর্মনিরপেক্ষ বনাম ইসলামী রাষ্ট্র (২): কে মুসলিম, কে নেতা?

বাংলা বর্ষবরণ - মৌলবাদের গ্রাসে আমাদের ভাষাভিত্তিক জাতীয়তা

বাংলা বর্ষবরণমৌলবাদের গ্রাসে আমাদের ভাষাভিত্তিক জাতীয়তা

হাসান মাহমুদ ২০ এপ্রিল ২০২৩ -  মূল নিবন্ধ - "আমাদের ভাষাভিত্তিক জাতীয়তা বনাম আগ্রাসী মৌলবাদ":-   https://bangla.bdnews24.com/opinion/bmke2kg6hq

জীবনে দুর্ঘটনা বলে কিছু নেই। যা ঘটেছে তা এজন্যই ঘটেছে যে কার্য্য-কারণ সমীকরণ মোতাবেক সেটা ছাড়া আর কিছুই ঘটতে পারতোনা। কয়েক দশক আগে গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশগুলো যাত্রা শুরু করেছিল ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে, যেমন জিন্নাহ'র পাকিস্তান, নাসেরের মিশর, ড. মোসাদ্দেকের ইরান, সুকর্ণ'র ইন্দোনেশিয়া, পরে বঙ্গবন্ধু-তাজউদ্দিনের বাংলাদেশ। তুরস্ক তো ১০০ বছর আগে থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ। কিন্তু এখন ওই প্রত্যেকটি দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা-বিরোধী শারীয়াপন্থীরা শক্তিশালী। এ বিবর্তনের কারণগুলো বাংলাদেশেও বিদ্যমান, বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ কিছুটা হলেও সেদিকে এগিয়েছে। ওয়াশিংটনের "রিজলভ নেটওয়ার্ক" ২০১৭ সালে ‘ডেমোক্রেসি অ্যান্ড শরিয়াহ ইন বাংলাদেশ: সার্ভেইং সাপোর্ট’ শিরোনামে বাংলাদেশে ৪ হাজার ৬৭টি পরিবারের ৫০% পুরুষ ও ৫০% নারীর ওপর জরিপ করেছে যাদের ৭৫% গ্রামবাসী। এই প্রবন্ধটি লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিকস অ্যান্ড গভর্নমেন্টের অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী সৈয়দা সেলিনা আজিজ। সেখানে দেখা যায় ৮০% এর বেশি উত্তরদাতা মনে করেন, শারিয়া আইন মৌলিক সেবা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সহায়ক এবং শারিয়া আইন থাকলে দেশে দুর্নীতি কমবে” – “গণতন্ত্র ও শরিয়াহ আইন: জনমত দুটিরই পক্ষে" - প্রথম আলো ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭। এর ৫ বছর পর ২০২২ সালের রিপোর্টেও দেখা যাচ্ছে জনমত শারিয়া আইন তথা ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষে ঝুঁকেছেন - দৈনিক প্রথম আলো ২৬ জানুয়ারি, ২০২২।

অর্থাৎ একাত্তরে রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের জঠরে জন্ম নেয়া বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতা এখন প্রবল ঝুঁকির মধ্যে আছে। দেশে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি সহ এর অনেক কারণের একটা হল দেশে অগণিত আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ ও সংঘাত থাকলেও তাঁরা একাগ্রভাবে পাকিস্তান আমল থেকেই জনগণকে ইসলামী রাষ্ট্রের সমর্থনে টেনেছেন। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে তাঁদের "ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা"র যুদ্ধে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনেকগুলো ফ্রন্টের একটা।      

আরো অজস্র শব্দের মতো শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র নামগুলো এসেছে হিন্দু মাইথলজি (পৌরাণিক কাহিনী) থেকে কিন্তু এখন ওগুলো বাংলা ভাষার অন্তর্ভুক্ত এবং ধর্মনিরপেক্ষ। "মঙ্গল" নিয়ে আপত্তি হলে বাকী শনি রবি বুধ বৃহস্পতি শুক্র-কে কি করবেন তাঁরা? মঙ্গলবারের নাম দেবেন "ভুট্টুবার"? মঙ্গলগ্রহের নাম দেবেন "টুটটুগ্রহ"? তাঁরা সন্তানের মঙ্গল কামনা করবেন না? তাঁদের দাবী "মঙ্গল" শব্দটা এবং শোভাযাত্রার কিছু মুখোশ হিন্দুয়ানী, কাজেই ওগুলোর ব্যবহার আমাদেরকে “ইসলাম-ভ্রষ্ট করার সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র”। এগুলো তাঁরা কবে কাদের কোন গবেষণায় পেয়েছেন? মুখোশের কারণে ক’জন মুসলিম ইসলাম-ভ্রষ্ট হয়েছে নামধাম সহ তার তালিকা দিন।  দিতে না পারলে প্রমান হবে তাঁরা আমাদের সংস্কৃতি ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছেন, তাঁদেরকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনা দরকার।

আসলে এগুলো সব বাহানা, তাঁদের আসল সমস্যা অন্য জায়গায়। মুখোশ-বিরোধী পক্ষের কাউকে কখনো একুশের বা নববর্ষের মিছিলে দেখেছেন? দেখেন নি। শোভাযাত্রার আয়োজকেরা আগামী বছর শোভাযাত্রায় মুখোশ ব্যবহার করবেন না ঘোষণা দিয়ে দেখতে পারেন, মুখোশ-বিহীন শোভাযাত্রায় তাঁরা যোগ দেন কিনা। এতে প্রমান হয়ে যাবে আসলে তাঁদের গাত্রদাহ মুখোশ নিয়ে নাকি ওটা আসলে বাহানা যা তাঁদের করতে হয় অন্য উদ্দেশ্যে। কি সেই উদ্দেশ্য?

১।"ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত আমাদের শাহাদা পড়া সম্পূর্ন হইবে না" - (অর্থাৎ উনাদের মুসলমানিত্ব অসম্পূর্ন থাকবে) - ‘উইটনেস টু ম্যানকাইণ্ড’পৃষ্ঠা ৩২, মওলানা মওদুদি। মুখোশ-বিরোধীরা মওদুদীপন্থী হন বা না হন, ইসলামী রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং সেপথে যে কোনো বাধাকে যে কোনো উপায়ে পরাজিত করা তাঁদের জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য। "মারি অরি পারি যে কৌশলে" - মেঘনাদ বধ।  

২। সেপথে তাঁদের সর্বপ্রধান বাধা বাংলাদেশের জন্মের উৎস আমাদের ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, যার শেকড় বাহান্ন'র ভাষা আন্দোলন। সেই বাধাকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে ইসলামকে আমাদের ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে। ব্রিটিশের পলিসি ছিল - "গিভ দি ডগ এ ব্যাড নেম অ্যান্ড হ্যাং হিম" (একটা বদনাম রটিয়ে কুত্তাটাকে ফাঁসি দিয়ে দাও)।  একুশকে বদনাম করার জন্য গোলাম আজম বলেছিলেন বাহান্নর ভাষা আন্দোলন ছিল "মারাত্মক ভুল" (দৈনিক আজাদ, ২০ জুন ১৯৭০)।  দেশে চিৎকার শোনা যায় একুশের ভোরে খালি পায়ে শহীদ মিনারে যাওয়া, ফুল দেয়া এগুলো নাকি শির্ক।  আঘাত হানা হল আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের ওপরেও। লক্ষ লক্ষ মা-বোনের লঙ্ঘিত সম্ভ্রম এবং লক্ষ লক্ষ নিরপরাধের আর্তনাদ মেশানো ওই রক্তস্নাত দিনগুলো উদযাপন করা যাবেনা, করলে নাকি জাহান্নামে যেতে হবে। কারণ জন্মদিন সহ যে কোনো "দিন" পালন করা নাকি "বেদাত", ইসলামে নুতন কিছু যোগ করা।  দাবীটা কেন মতলবী তা এই মতামত বিভাগে ২৫ মার্চ ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত "২১শে, ২৬শে, ১৬ই উদযাপন কি শির্ক?" নিবন্ধে বিস্তারিত আছে:- https://bangla.bdnews24.com/opinion/feature-analysis/52949

৩। কেতাব লিখেও আমাদের ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে "ইসলাম বিরোধী" প্রমানের ষড়যন্ত্র হয়েছে। যেমন –

(ক) "ভাষাভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক জাহেলীয়াতের পরিণতি", লেখক ভারতের আলেম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদবী, অনুবাদ আবদুল মান্নান তালিব, প্রকাশক সিন্দাবাদ প্রকাশনী, ২ কাজী আলাউদ্দীন রোড, ঢাকা। এ বইতে তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করে লিখেছেন একাত্তরে আমরা পাকিস্তানকে পরাজিত করেছি, সেটা নাকি আমাদের "ভাষা-পূজা" ইসলামের তৌহিদকে পরাজিত করেছে - পৃষ্ঠা ৯। আলেম বটে!    

(খ) মওদুদীর লিখেছেন ইসলামী জাতীয়তাবাদ ছাড়া বাকী সব জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হল প্রধানত: বংশ, স্বদেশ, ভাষা, বর্ণ, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও শাসন ব্যবস্থার ঐক্য। এই ভিত্তিগুলো নাকি - "গোটা মনুষ্যজাতির পক্ষে এক কঠিন ও মারাত্মক বিপদের উৎস হয়ে রয়েছে, তাও কেউ অস্বীকার করতে পারে না" - "ইসলাম ও জাতীয়তাবাদ" - মওলানা মওদুদী, পৃষ্ঠা ১০ ও ১১।  (মওদুদীকে বলতে চাই, ‘অবশ্যই অস্বীকার করতে পারি এবং করছি, মওলানা!’)                     

অর্থাৎ আমাদের বাংলা ভাষা-ভিত্তিক জাতীয়তাবাদটা "গোটা মনুষ্যজাতির পক্ষে কঠিন ও মারাত্মক বিপদের উৎস", তাই সেটাকে ধ্বংস করে "গোটা মনুষ্যজাতি"কে এই "কঠিন ও মারাত্মক বিপদ" থেকে রক্ষা করাটা উনাদের “ঈমানী দ্বায়িত্ব”।  আমি বুঝতে পারিনা বাংলাদেশের জন্মদর্শনকে হত্যাকামী এই প্রচণ্ড রাষ্ট্রবিরোধী বইটা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইটে কেন? 
https://jamaat-e-islami.org/publication/file/292_islam_o_jatiotabad.pdf 

https://www.icsbook.info/read-full-book/305

৪। যেহেতু ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত উনাদের মুসলমানিত্ব অসম্পূর্ন, তাই এ উদ্দেশ্যে তাঁরা যা কিছু দরকার তাই করবেন। এজন্য তাঁরা মিথ্যা বলাকেও শুধু উৎসাহিতই নয় বরং বাধ্যতামূলক করেছেন। কাজেই তাঁদের মন-মগজে কি ঘুরছে তা তাঁদের মুখের কথা থেকে নিশ্চিত হওয়া অসম্ভব। শারিয়া আইনে আছে:- "উদ্দেশ্য বাধ্যতামূলক হইলে সে উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলা বাধ্যতামূলক" - আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা সত্যায়িত শারিয়া কেতাব ‘উমদাত আল সালিক’ আইন নং r.8.2। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো "তাকিয়া" পদ্ধতিতেও তিন ক্ষেত্রে মিথ্যা বলাকে ইসলামের নামে বৈধ করা আছে। দুনিয়ায় বোধহয় একমাত্র তাঁদের “ধর্ম”টাই মিথ্যাকে উৎসাহিত ও বাধ্যতামূলক করেছে। শোভাযাত্রার বিরোধীতা উচ্চারিত হয় তাঁদের এই কোরান-বিরোধী কণ্ঠেই, - কারণ কোরানের নির্দেশ - "তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে শুনে সত্য গোপন করো না”- সূরা বাকারা ৪২।   

তাঁরা জাতিকে কি মনে করেন? জাতির ইসলামী ঈমান এতই ঠুনকো যে কয়েকটা মুখোশ দেখেই তা ভেঙে যাবে? এই উদ্ভট কথাটা যুক্তি নয়, কুযুক্তি। গণেশের বাহন ইঁদুর এবং সাপ ইঁদুর খায়, তাই “সাপ হিন্দু বিরোধী" বলার মতোই কুযুক্তি। তাঁরা অবশ্যই জানেন যে ওই প্রাণীদের অস্তিত্ব হিন্দু ধর্মের বাইরেও ব্যাপক। দুনিয়ার সব রাজহাঁস সরস্বতীর বাহন নয়, সব ময়ূর কার্তিকের বাহন নয়, সব প্যাঁচা লক্ষ্মীর বাহন নয়। ওগুলোকে টেনে হিঁচড়ে হিন্দুধর্মের সাথে জুড়ে দেয়াটা প্রমান করে, - ইবলিশকে যে অধিকার দেয়া হয়েছিল মানুষকে পথভ্রষ্ট করার তাতে সে কিছুটা হলেও সফল হয়েছে (সূরা বনি ইসরাইল আয়াত ৬৪)। আরো প্রমান করে উম্মতের জন্য নবীজীর (স) "সর্বাপেক্ষা গভীর উদ্বেগ" কি ছিল এবং কেন ছিল:- "উম্মতের জন্য আমার সর্বাপেক্ষা গভীর উদ্বেগ পথভ্রষ্টকারী আলেমদের লইয়া"- সুনান ইবনে মাজাহ ৫ম খন্ড হাদিস ৩৯৫২।

এই পথভ্রষ্টকারী আলেমরা আমাদের সমাজেই লুকিয়ে আছে তা তাঁরাও জানেন বৈকি:-    

“রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন যে, শেষ যামানায় (কিছু সংখ্যক) মূর্খ ইবাদাতকারী এবং ফাসেক আলেম বের হবে। এ সম্পর্কে হযরত মুজাদ্দেদ আলফে সানী মাকতুবাত গ্রন্থে লিখেছেন যে, জনৈক বুযুর্গ ব্যক্তি একবার অভিশপ্ত ইবলিশকে দেখতে পায় যে, সে একেবারে খোশ মেজাজে ও বেকার বসে আছে। ওই বুযুর্গ ব্যক্তি ইবলিশকে তার এ হেন বেকার বসে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলে প্রত্যুত্তরে সে বলে যে, বর্তমান সময়ের আলেম সমাজ আমাদের কাজ সমাধা করছে, জনগণকে পথভ্রষ্ট করার জন্য তারাই যথেষ্ট” – “আলেম-ওলামাদের সম্মান ও মর্যাদা (অংশ বিশেষ) - এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান, উপসম্পাদকীয় দৈনিক সংগ্রাম ০৩ জুন ২০১৩।  

এটাই তো স্বাভাবিক যে এদেশে জন্মে যাঁরা আমাদের নৃতাত্বিক শেকড়কে অস্বীকার করেন তাঁরা আমাদের ভাষা ভিত্তিক জাতীয়বাদকে আঘাত করবেন! এটাই তো স্বাভাবিক যে যারা তাঁদেরকে "মিসকিন" বলে অপমান করে তাদেরই পরিচয়ে তাঁরা গর্বিত হবার অপচেষ্টা করবেন! প্রমান এখানে :-

ক. "বাংলাদেশী জনগণ মূলত: সেমিটিক দ্রাবিড়। সেমেটিকদের আদিনিবাস আরব ভূখণ্ড থেকেই তারা এসেছে। সুতরাং এই মানবগোষ্ঠী যদি নৃতাত্ত্বিক পণ্ডিতদের মতেই দ্রাবিড় হয়, আর দ্রাবিড় যদি আরব হয় তদুপরি আরব যদি সেমেতিক হয়তবে এ অঞ্চলের জনগণ যে সেমেটিক আরবগোষ্ঠীরই অধ:স্তন পুরুষ তাতে আর সন্দেহ কি? ....... খোদ বাংলা শব্দটি আরবী শব্দমালার পরিবর্তিত রূপ”- দৈনিক ইনকিলাব ১২ নভেম্বর ২০০৭ - সম্পাদকীয় "ইসলামী দল নিষিদ্ধের বায়না ও যুদ্ধাপরাধী প্রসঙ্গ"-এর অংশ।

খ.“নুহ (আ:)- এর এক পুত্র হ্যাম এশিয়া অঞ্চলে বংশবৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেন। হামের পুত্র হিন্দ-এর নামানুসারে "হিন্দুস্তান", সিন্দ-এর নামানুসারে "সিন্দুস্থান" বা "সিন্ধু" এবং হিন্দ-এর পুত্র বঙ্গ-এর নামানুসারে বঙ্গদেশ।.... তাহলে বলতে আর বাধা নেই নুহ (আ:)-এর পুত্র বা নাতির নামানুসারে বঙ্গ বা বাংলাদেশ”- ইনকিলাব ২৫শে জুন ২০০৮ - "ফিচার" পৃষ্ঠায় নিবন্ধ - "বাংলার ইতিহাসের পটভুমি"-র অংশ বিশেষ।

নৃতাত্ত্বিকেরা বিস্তর গবেষণায় বিভিন্ন কথা বলেছেন যেমন প্রাক-দ্রাবিড় গোষ্ঠীর লোকরাই বাংলার প্রকৃত আদিবাসী ইত্যাদি, সৈয়দ শামসুল হক তাঁর 'আমার পরিচয়' কবিতায় আমাদের নৃতাত্ত্বির রূপরেখা তুলে ধরেছেন, ইত্যাদি। কিন্তু ধর্মবিশ্বাস থেকে নৃতত্ত্ব তুলে আনা? অভিনব বটে!

সংস্কৃতি বিবর্তিত হয়। এক সময় নববর্ষে হালখাতা ইত্যাদি ছিল কিন্তু মিছিল ছিলনা। পরে মিছিল এল, নামহীন মিছিল পরে “আনন্দ-শোভাযাত্রা” হয়ে পরে “মঙ্গল-শোভাযাত্রা” হয়েছে, মুখোশহীন শোভাযাত্রায় মুখোশ এসেছে, অনেক কিছু হয়তো আবারও বদলাবে। এ নিয়ে এতো হৈ হৈ করে "ইসলাম গেল গেল" এই উদ্বাহু ধেড়েনৃত্য করার কি আছে?

আমাদের ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ-বিরোধী ও কোরান-বিরোধী এই অপশক্তির কি করা উচিত তাহলে? তাঁরা কবি লুৎফর রহমান রিটন-এর বন্ধুসুলভ নিরীহ পরামর্শটা ভেবে দেখতে পারেন।                                  

সমস্যা যদি হয় বৈশাখী মঙ্গলে-- 

লুৎফর রহমান রিটন

সমস্যা যদি হয় বৈশাখী মঙ্গলে, -  তুমি চলে যেতে পারো প্রিয় কোনো জঙ্গলে।

তুমি চলে যেতে পারো দূর মরু সাহারায়, -  বাঙালি রইলো তার সংস্কৃতি পাহারায়।

সংস্কৃতিসনে তুমি মিশিও না ধর্ম,  - মেশাতে চাইলে সেটা হবে অপকর্ম।

ধর্ম ও সংস্কৃতি চিরকালই ভিন্ন,  - সভ্যতা-ইতিহাসে তারই দ্যুতি-চিহ্ন।

(না মানুক অন্ধরা না জানুক উকিলে,  - বসন্ত আসিবেই ডাকিবেই কুকিলে...)

বাংলা ও বাঙালির আনন্দ হর্ষ -- বৈশাখ সমাগত শুভ নববর্ষ...

১১ এপ্রিল ২০২৩

Print